ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology)
পারমাণবিক বা আণবিক স্কেলে অতিক্ষুদ্র ডিভাইস তৈরি করার জন্য ধাতব বস্তুকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর বিজ্ঞানকে ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology) বলে।
অন্যভাবে বলতে পারি, ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানোটেকনোলজি বলে।
এক মিটারের ১০০ কোটি ভাগের এক ভাগ তথা ১০-৯ মিটারকে এক ন্যানোমিটার বলে। অর্থাৎ 1nm = 10-9 m
ন্যানোটেকনোলজির জনকঃ রিচার্ড ফাইনম্যান (Richard Feynman)
ন্যানো টেকনোলজিতে দুটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তার একটি হলো “bottom-up” বা নিচ থেকে উপরে এবং অপরটি “top-down” বা উপর থেকে নিচে।
১। বটম আপ(bottom-up) পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র আকারের জিনিস দিয়ে বড় আকারের জিনিস তৈরি করা হয়।
২। টপ ডাউন(top-down) পদ্ধতিতে কোন জিনিসকে কেটে ছোট করে তাকে নির্দিষ্ট আকার দেয়া হয়।
৩। আমাদের বর্তমান ইলেক্ট্রনিক্স হল, “top-down” প্রযুক্তি। আর ন্যানোটেকনোলজির হল “bottom-up” প্রযুক্তি।
ন্যানো প্রযুক্তির প্রয়োগক্ষেত্র:
কম্পিউটার হার্ডওয়্যার তৈরিতেঃ কম্পিউটারের মেমোরি, গতি, দক্ষতা ইত্যাদি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন হার্ডওয়্যার এবং ভিডিও গেমস কনসোল তৈরিতে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হয়।
ন্যানো রোবট তৈরিতেঃ ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতি ক্ষুদ্র রোবট তৈরির গবেষণা চলছে। এ ধরনের রোবট মানবদেহের অভ্যন্তওে অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম হবে।
ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি তৈরিতেঃ বিদ্যুৎ খরচ, ওজন এবং আকৃতি কমিয়ে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি তৈরিতে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হয়।
খেলাধুলার সামগ্রী তৈরিতে: টেনিস বলের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য, বাতাসে গলফ বলের পজিশন ঠিক রাখার জন্য, র্যাকেটের শক্তি ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও খেলোয়াড়দের জুতা, মোজা, ট্রাউজার প্রভৃতির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও আরামপ্রদ করার জন্য ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology) ব্যবহৃত হয়।
মহাকাশ অভিযানে: মহাকাশ অভিযানে ব্যবহৃত বিভিন্ন নভোযানকে হালকা করে তৈরি করে জ্বালানির পরিমাণ কমাতে ন্যানো টেকনোনলজি ব্যবহৃত হয়।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন